1. amd477271@gmail.com : admin : প্রভাত সংবাদ
  2. mdjoy.jnu@gmail.com : dainikbangladesh : Shah Zoy
বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ০৬:২২ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
কুমারখালীতে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মৌসুমী আক্তার প্রচারণায় এগিয়ে কুমারখালীতে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী তুষারের ব্যাপক জনসংযোগ কুমারখালীর গড়াই রেল ব্রিজের নীচ থেকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার মহাসড়কে দুর্ঘটনা হ্রাস ও নিরাপত্তা নিশ্চিত কল্পে কুমিল্লা রিজিয়ন কর্তৃক বিশেষ অভিযানে প্রসিকিউশন ১৭০টি, থ্রি হুইলার আটক ৪০টি ও দেড় কাজি গাঁজা সহ গ্রেফতার ১ কুমিল্লা রিজিয়নের ২২ থানার পুলিশ সদস্যদের জন্য ওরস্যালাইন, গ্লুকোজ ও পানি দিচ্ছেন অতিরিক্ত ডিআইজি মো: খাইরুল আলম আতাউর রহমান আতা ভাই কে আবারো জয়যুক্ত করার লক্ষ্যে জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়টুকু দিয়ে কাজ করে চলেছেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুল কুদ্দুস

কুমিল্লায় চারশ’ বছরের প্রাচীন নিদর্শন জগন্নাথ দেবের মন্দির

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই, ২০২১
  • ৩৬৭ বার পড়া হয়েছে

প্রভাত সংবাদ প্রতিবেদক ।। কুমিল্লায় চারশ’ বছরের প্রাচীন নিদর্শন শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের মন্দির বা সতেরো রত্ন মন্দির।

এটি কুমিল্লা মহানগরীর সন্নিকটে আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের খামার কৃষ্ণপুর গ্রামে অবস্থিত।

জানা যায়,এক সময় এ মন্দিরটিতে সতেরোটি রত্ন থাকায় এর নাম দেয়া হয় সতেরো রত্ন মন্দির। অনেকের মতে এ মন্দিরটিতে ১৭টি চূড়ার কারণে এর নাম দেয়া হয় সতেরো রত্ন মন্দির। এটি হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি তীর্থ স্থান হিসিবে পরিচিত। প্রায় চারশ’ বছরের প্রাচীন মন্দিরটি দেখতে প্রায় প্রতিদিনই শত শত লোকের সমাগম ঘটে সেখানে। বর্তমানে মন্দিরটি সংরক্ষণ করছেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।
মন্দির কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা যায়, ১৬৮৫-১৭১২ খৃষ্টাব্দে সতেরো রত্ন মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে এর নির্মান কাজ শুরু করেন ত্রিপুরার মহারাজ দ্বিতীয় রত্নমাণিক্য। পরবর্তীতে মহারাজা কৃষ্ণকিশোর মাণিক্য ১৭৬১ খ্রিষ্টাব্দে এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন। কিন্তু রাজমালায় বর্ণিত হয়েছে যে, ইহা কৃষ্ণমাণিক্য কর্তৃক নির্ম্মিত, তিনিই মন্দিরের মধ্যে জগন্নাথ দেবকে স্থাপন করেন।

ষোড়শ শতাব্দীতে নির্মিত এই মন্দিরটি বাংলার টেরাকোটা স্থাপত্যের নিদর্শন বহন করে। অষ্টকোণ আকৃতির স্থাপত্য পরিকল্পনার এই মন্দিরটি সতেরো চূড়া বিশিষ্ট হলেও বর্তমানে অধিকাংশ চূড়াই ধ্বংস হয়ে গেছে।

মন্দিরের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় ৮টি করে ১৬টিসহ চূড়ার সংখ্যা ১৭টি ছিল। মন্দিরটির ব্যাস ৫২.০৫ মিটার। বাইরের দিক থেকে তিনতলা মনে হলেও মন্দিরটির ভিতরের দিক থেকে পাঁচ তলা পর্যন্ত ওঠা যায়। প্রথম তলার উচ্চতা প্রায় ৪.০৫ মিটার। ২.১০ মিটার উঁচু চারটি প্রবেশপথ দিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করা যায়। প্রবেশ পথের দুই পাশে রয়েছে নকশা। দ্বিতীয় তলায় ৬ টি জানালা রয়েছে। মন্দিরের প্রতিটি ধাপে রয়েছে নকশা। এছাড়াও মন্দিরটিতে ফুল, লতাপাতা, ঘণ্টা ও জ্যামিতিক নকশায় অলংকৃত করা হয়েছে। মন্দিরটি বর্তমানে অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে।

মন্দির এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ছায়াঘেরা নিরিবিলি পরিবেশ। গাছে গাছে পাখির কলধ্বনি । প্রাচীন মন্দিরটির পাশে বর্তমানে নির্মান করা হয়েছে আরেকটি মন্দির। রয়েছে তুলসীতলা প্রার্থনা বেদী, যজ্ঞ মন্দির, নাট মন্দির।

এখানে রয়েছে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) কুমিল্লা শাখা কার্যালয়। এরা ১৯৯৭ সাল থেকে এই মন্দিরটি পরিচালনা করে আসছে। মন্দিরে আগত ভক্তদের আতিথেয়তার জন্য বর্তমানে নির্মানধীন রয়েছে একটি নতুন ভবন। সেবা পূজারীদের সেবা দানের জন্য উক্ত মন্দিরে রয়েছে প্রায় ৫০ জন সেবক।

এখানে প্রতি বছর বাংলা সনের আষাঢ় মাসে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এবছরও আগামী ২৭শে আষাঢ় রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে বলে মন্দির কর্তৃপক্ষ জানায়। তবে রথযাত্রার ১৫ দিন আগে করা হয় চাঁনযাত্রা। ইতিপূর্বে সেই চাঁনযাত্রা হয়ে গিয়েছে। রথযাত্রায় জগন্নাথ দেবকে নিয়ে যাওয়া হয় কুমিল্লা শহরের সন্নিকটে পাথুরিয়াপাড়া গুচিন্ডা মন্দিরে। প্রতি বছর রথযাত্রা কালে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার লোকের সমাগম হয়ে থাকে সেখানে ।

ইসকন কুমিল্লা শাখার সাধারণ সম্পাদক পীতাম্বর গৌরাঙ্গ দাস বলেন, জনশ্রুতি রয়েছে ১৭টি মূল্যবান রত্ন স্থাপন করা হয়েছে মন্দিরটিতে। সেই রত্ন চুরি করতে চোর মন্দিরের চূড়ায় ওঠে। নামার সময় মন্দিরের ভেতরের গর্তে পড়ে যায়। মন্দির থেকে পাশের পুকুরে সেই গর্তের সংযোগ রয়েছে। চোর বাঁচার জন্য সেই গর্তে দিয়ে পুকুর পর্যন্ত চলে আসে। কয়েকদিন পর তার মৃতদেহ পুকরে ভেসে ওঠে। তিনি আরো বলেন, ত্রিপুরার রাজাকে স্বপ্নে জগন্নাথ দেব বলেন, এখানে মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই মন্দিরে আর তিনি সেবা পূজা নিতে পারবেন না। তাকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। মন্দির নির্মাণের প্রায় দেড়শ’ বছর পরে ওই ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে মন্দিরটি অব্যবহৃত রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে এর পাশেই আরেকটি মন্দির নির্মান করে প্রার্থনা সেবা করা হচ্ছে।
গৌরাঙ্গ দাস বলেন, এই জগন্নাথ মন্দিরটি ভারতের ত্রিপুরার মন্দিরের চাইতেও অনেক বড়। এই মন্দিরটির প্রায় ৩০০ একর সম্পত্তি ছিল। যা এখন বেদখল হয়ে গেছে। বর্তমানে মন্দির ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ একর জমি রয়েছে। বাকী সম্পত্তি উদ্ধারে চেষ্টা চলছে। এনিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

ভবিষৎ পরিকল্পনা নিয়ে ইসকন কুমিল্লা শাখার সাধারণ সম্পাদক পীতাম্বর গৌরাঙ্গ দাস জানান, মন্দিরটির সৌন্দর্য এখনো চোখ জুড়ানো। এটি সংস্কার করা প্রয়োজন। মন্দিরের পাশে রয়েছে একটি বিশাল পুকুর। পুকুরে মাছের চাষ করা যায়না, কারন কে বা কারা পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ গুলো মেরে ফেলে । তাই এটি সংরক্ষন করে মাছ চাষের পাশাপাশি পুকুরের মাঝখানে পানির ফোয়ারা তৈরী করে দৃষ্টি নন্দন করে গড়ে তোলা। পুকুরের আশপাশ সহ পুরো এলাকাটি পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক ড. আতাউর রহমান বলেন, ১৭টি চূড়ার কারণে এর নামকরণ করা হয় সতেরো রত্ন মন্দির। মন্দিরটি মধ্যযুগের স্থাপত্য শিল্পের অপূর্ব নিদর্শন। এটিকে আরো সংস্কার করে প্রত্ন পর্যটন বিকাশে টিকিটের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন