গান গেয়ে সংসার চলে প্রতিবন্ধী বিথেন সরকারের
কামাল উদ্দিন টগর,নওগাঁ প্রতিনিধিঃ-
দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বাবা বিথেন সরকারের পাশে দাঁড়ালেন একমাত্র মেয়ে বিথি সরকার। ভিক্ষাবৃত্তি না করে জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে শহরের বিভিন্ন এলাকায় গান গেয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি।এলাকার মানুষ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বিথেন সরকারের মেয়ের তার গান শুনে মুগ্ধ হয়ে কেউ ৫টাকা ১০টাকা কেউবা ২০টাকা,৫০টাকা দিচ্ছেন অতি আনন্দে । এক স্থানে প্রায় ঘন্টা খানেক গান শোনান সঙ্গীত প্রেমীদের। এখন তারা বেঁচে থাকার তাগিদে দু-মোঠ খাবারের আশায় অন্ধ বাবার পাশে থেকে বিথি সরকার তার নেশা এবং পেশাই হচ্ছে একমাত্র গান। জন্মের পর থেকে অন্ধ হলেও ভিক্ষাবৃত্তি পেশাকে বেছে নেননি অন্ধ প্রতিবন্ধী বিথেন সররকার ও তার একমাত্র মেয়ে গ্রাম বাংলার বাউল শিল্পি বিথি সরকার। অন্ধ বিথেন সরকার জানান, জন্মের পর থেকে তিনি অন্ধ । বতমানে হারমুনিয়াম,বাদ্য যন্ত্র বাজিয়ে তিনি জীবিকা নিবাহ করেন। অনেকে ভিক্ষাবৃত্তি পেশা নিতে বলেছেন, তবে আমার মেয়ে এই অভাব-অনাটন দূর করতে আমার সাথে গান করে আমার পাশে দাড়াঁয়। আমার ভিক্ষা বৃত্তি নিতে দেন নাই। আমিও ভিক্ষা বৃত্তি করতে আমিও ইচ্ছুক নই। প্রতিবন্ধী অন্ধ বিথেন সরকার জানান, তার বাড়িতে আমার একমাত্র কন্যা সন্তান ছাড়া আর কেহ নাই। অভাবের সংসারের দায়িত্ব তার এক মাত্র কন্যার ঘাড়ে। বগুড়া, নাটোর,গাইবান্ধা, নওগাঁ জেলার বিভিন্ন হাট –বাজারে হারমুনিয়াম,বাদ্য যন্ত্র বাজিয়ে গান শুনিয়ে চলে তাদের সংসার। বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলায় তার দুই শতক জমির উপর তার বাড়ি। বাড়ির জমিটি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে তাকে। বাড়ি করতে উপজেলা প্রশাসন সহযোগীতা করেছে।
বিথেন সরকারের ইচ্ছা তার মেয়েকে পড়ালেখা শিখিয়ে মানুষ বানাবে। পাত্রস্থ করবে সুপাত্রের হাতে। এ ছাড়াও পরিবারের অনেক স্বপ্ন পূরন করতে পারেন নাই অভাবের তাড়নায়।সে গুলো বাস্তবায়ন করার ইচ্ছা ছিল তার।বিথেন সরকার জানান, তার প্রতিদিন হাজার খানেক টাকা আয় হয় গানশুনিয়ে। তবে প্রাকৃতিক দযোগ ও করোনাকালীন সময়ে খুব খারাপ সময় কেটেছে তার। বিথেনের মেয়ে জানান, আমি ৭ বছর বয়স থেকে বাবার সাথে সংসারের অভাবের কারণে বিভিন্ন শহরে হাট –বাজারে গান শুনিয়ে যাহা আয় হয় তা দিয়ে সংসারের কিছুটা অভাব পপূরন করতে পারি। সরকার যদি আমার গানকে আরো প্রসারিত করতে সক্ষম হন বা আর্থিক সহযোগিতা দেন তবে আমি আগামীতে একজন বড় শিল্পি হওয়ার স্বপ্ন দেখি।#
প্রতিবেদনঃ- কামাল উদ্দিন টগর।
ক্যামেরায়ঃ- মোঃ আসিফ হাসান।